লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের জেরে নিউজ২৪ টেলিভিশনের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি রবিউল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। মামলায় বড়খাতা নেসকো বিভাগের প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেন বাদী হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতীবান্ধা এলাকায় দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যুতের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে ওই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন রবিউল হাসান। পরবর্তীতে ওই সংবাদ প্রকাশের জেরেই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ প্রকাশের কারণে মামলা—উদ্বেগ সাংবাদিক মহলেএকটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন রাষ্ট্রে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা, জনদুর্ভোগের চিত্র প্রকাশ করা এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা।
বিদ্যুৎ, পানি, সড়ক, স্বাস্থ্য কিংবা জনসেবার মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিয়ে মানুষের ভোগান্তির সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব। কোনো এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করলে সেই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করা একজন সাংবাদিকের স্বাভাবিক পেশাগত দায়িত্বের অংশ।
কিন্তু সেই সংবাদ প্রকাশের পর যদি সাংবাদিককে মামলার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তা শুধু একজন সাংবাদিকের বিষয় হয়ে থাকে না; বরং সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং জনগণের জানার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
হাতীবান্ধার সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের সংবাদও সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়ে থাকলে, সেখানে সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা কেন করা হলো—এ প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে মামলায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো অসত্য বা আইনবিরোধী তথ্য ছিল কি না এবং মামলার অভিযোগের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের সম্পর্ক কী—এসব বিষয়ও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একজন সাংবাদিকের কলম বা ক্যামেরা শুধু তার নিজের নয়—সাধারণ মানুষের কথা বলার একটি মাধ্যম।
একটি স্বাধীন দেশের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা শুধু সাংবাদিকদের দাবি নয়; এটি জনগণের জানার অধিকার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বার্থের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।