বিরোধী দল:
“আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী; এতে হকদারদের অধিকার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, মুসলিমদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার আল্লাহ কোরআনে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। উইল বা ওসিয়তের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে এক-তৃতীয়াংশের সীমা রয়েছে এবং হকদারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। তিনি সূরা আন-নিসার উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত আয়াত ও রাসুল (সা.)-এর “এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক” হাদিসের উদ্ধৃতি দেন।
তিনি বলেন, “আল্লাহ বান্দার জন্য যে বিধান করেছেন, তা বান্দার কল্যাণের জন্যই করেছেন।”
সরকারি দল:
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি কোনো ধর্মীয় উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তন করছে না; বরং সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার জীবদ্দশায় ভোগাধিকার সংরক্ষণের একটি নতুন আইনি পদ্ধতি তৈরি করছে।
বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা/পিতামহ-মাতামহ ও সন্তান/নাতি-নাতনি অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।
দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে, আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য, বিদ্যমান আইনে এমন জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত আইনটি সব ধর্মাবলম্বীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
সরকারের দাবি, নতুন বিধানটি প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা বা অন্য কোনো স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিকে বাতিল বা পরিবর্তন করবে না এবং এগুলোর সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিও সৃষ্টি করবে না।
মূল বিতর্ক
বিরোধীদের প্রশ্ন: হকদারদের অধিকার কি ক্ষুণ্ন হবে?
সরকারের অবস্থান: উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তন নয়, শুধু দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।