১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। তখনো ভোরের আলো ফোটার অপেক্ষা। পাখির কূজন চারিদিকে। ঝিরিঝিরি বাতাসে প্রকৃতি স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ছিল। নাগরিকরা গভীর ঘুমে। দূরের মসজিদ থেকে ভেসে আসছে মুয়াজ্জিনের ডাক ‘নামাজের জন্য এসো, কল্যাণের জন্য এসো’। কিন্তু ঘাতকচক্রের কানে সে ডাক কোনো প্রভাব ফেলেনি। সে সময় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটিকে ঘিরে চলছে নরপশুদের হিংস্রতার চূড়ান্ত উৎসব। বুলেটের আঘাতে বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের বুক ঝাঁঝরা করে ঘাতকচক্র মেতে উঠেছিল রক্তের হোলিখেলায়। ঘৃণ্য ঘাতকচক্র সেদিন বাংলাদেশের বাতিঘরের পবিত্র আলো নিভিয়ে দেশকে অন্ধকারের পথে ঠেলে দেওয়ার এক জঘন্যতম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্ষতবিক্ষত করা হয় পুরো বাংলাদেশকে। বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে সেদিন ছিল একটি কালো দিন। দেশের মানচিত্রসম মানুষটির রক্তে সেদিন ভিজে গিয়েছিল পুরো বাংলাদেশ।