ঢাকা, বাংলাদেশ ।     সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বাসার নিচে মাথায় গুলিবিদ্ধ শিশু মুসা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন, এখন তাকাচ্ছে, হাত-পা কিছুটা নাড়াচ্ছে.

‘মুসা, মুসা; পা ওপরে তোলো’—চিকিৎসকের এমন নির্দেশনা শিশুটি বুঝল কি না, বোঝা গেল না। কারণ, তার দৃষ্টি অর্থপূর্ণ ছিল না।

তবে শিশুটি তার বাঁ পা কিছুটা নাড়ল। চেহারায় একমুহূর্তের জন্য বেদনার অভিব্যক্তি ফুটে উঠল। চিকিৎসকের হাত তখন মুসার হাতের কাছে। স্পর্শ পেয়ে চিকিৎসকের হাত নিজের বাঁ হাতের মুঠিতে নিল শিশুটি। তখন চিকিৎসকের মুখে চওড়া হাসি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বাসার নিচে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল সাত বছর বয়সী শিশু মুসা। এখন তার চিকিৎসা চলছে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে। গত বুধবার হাসপাতালে ধারণ করা তার এক ভিডিও চিত্রে এমন দৃশ্য দেখা গেল।

এই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ সবচেয়ে কম বয়সী শিশু মুসা। তাকে নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করে প্রথম আলো। প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয় গত ২৮ জুলাই। গত ৭ অক্টোবর ‘আন্দোলনকালে গুলিবিদ্ধ শিশু মুসাকে সিঙ্গাপুরে নিতে বলছেন চিকিৎসকেরা, কে দেবে এত টাকা’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর গত ২২ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য মুসাকে সিঙ্গাপুরে পাঠায় সরকার।

মুস্তাফিজুর রহমান ও নিশামনি দম্পতির একমাত্র সন্তান বাসিত খান মুসা। পরিবারটির বসবাস রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়া হাট এলাকায়। মালিবাগে মুসার বাবা ও দাদার ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকান আছে। গত ১৯ জুলাই মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে মুসাকে আইসক্রিম কিনে দিতে নেমে নাতিসহ দাদি মায়া ইসলাম (৬০) গুলিবিদ্ধ হন। মায়া ইসলাম পরদিন মারা যান।

গুলিবিদ্ধ মুসাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। গত ২৬ আগস্ট তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিউরোসার্জারি বিভাগে (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য) স্থানান্তর করা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্থানান্তর করা হয় সিএমএইচের শিশু নিউরোলজি বিভাগে।

সিএমএইচে মুসা জ্যেষ্ঠ নিউরোসার্জন অধ্যাপক কর্নেল মো. আল আমিন সালেক ও পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক কর্নেল নাজমুল হামিদের অধীন চিকিৎসাধীন ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য মুসাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর জন্য সুপারিশ করেছিলেন তাঁরা। তবে সিঙ্গাপুরে মুসার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ জোগাড় করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর চ্যানেল আই মুসাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর জন্য বিনা মূল্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দেয়। সরকার সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে মুসার চিকিৎসা নিশ্চিত করে। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ২০তম ব্যাচের চিকিৎসকদের উদ্যোগে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত চিকিৎসক, প্রবাসীসহ সাধারণ মানুষ অর্থসহায়তা দিয়ে মুসার পাশে দাঁড়ান।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মুসার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসায় তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে তাকে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিও) স্থানান্তর করা হয়েছে।

মুসার সঙ্গে রয়েছেন তার মা নিশামনি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলের এখন লাইফ সাপোর্ট লাগছে না। সে নিজে থেকে হাত-পা কিছুটা নাড়াতে পারছে। চোখ খুলে তাকাচ্ছে। আগে সে চোখের পাতা ফেলত না। তবে এখন ফেলছে। তবে তার দৃষ্টি অর্থপূর্ণ নয়। চোখের সামনে আলো ধরলে বা আঙুল নিয়ে গেলে সে সাড়া দেয় না।

 

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo