ঢাকা, বাংলাদেশ ।     সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিজেরা কাদা–ছোড়াছুড়ি করলে দেশ ও জাতি বিপন্ন হবে,সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান সেনাপ্রধানের

জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পেছনে প্রথম কারণ আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত। একজন আরেকজনের বিষোদগারে ব্যস্ত।

তিনি বলেন আপনারা এগুলো (শহীদ সেনাদের বিভৎস ছবিগুলি) ছবিতে দেখেছেন, কিন্তু এগুলো আমার চাক্ষুষ দেখা। আমি চাক্ষুষ স্বাক্ষী এই সমস্ত বর্বরতার। একটা জিনিস আমাদের পরিষ্কার মনে রাখতে হবে, এই সমস্ত বর্বরতা কোনো সেনা সদস্য দ্বারা ঘটেনি, এ সমস্তটাই বিজিবি সদস্যদের দ্বারা ঘটেছে। ফুল স্টপ। এখানে কোনো ইফ বা বাট নাই; এখানে যদি ইফ বা বাট আনেন, তাহলে সঠিক বিচারের প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে না। 

যে সমস্ত সদস্য শাস্তি পেয়েছে, তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। এখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ কিংবা বাইরের কোনো শক্তি ইনভলভড ছিল কিনা, তার জন্য কমিশন করে দেওয়া হয়েছে। তারা এটা বের করবেন এবং আপনাদের পরিষ্কার জানাবেন। 

আমার উপদেশ গ্রহণ করলে আপনারা লাভবান হবেন, এটা আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি। আমরা নিজেরা ভেদাভেদ সৃষ্টি না করি। আমরা নিজেরা ইউনাইটেড থাকি। আমাদের নিজেদের মধ্যে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, সেটা আমরা আলোচনার মাধ্যম সমাধান করব। এটার জন্য ডানে-বামে দৌঁড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। তা না হলে নিজের ক্ষতিই হবে।

 ২০০৯ সাল থেকে যারা শাস্তি পেয়েছেন, কেউ কেউ বলছেন তারা অযাচিতভাবে শাস্তি পেয়েছেন। এটা জন্য আমি একটা বোর্ড করে দিয়েছি। সেই বোর্ড প্রথম ফেইজে ৫১ জনের ব্যাপারে রিকমেন্ডেশন নিয়ে এসেছে। আমি তা গ্রহণ করেছি। নেভি এয়ারফোর্সও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।  আমার স্ট্যান্ড পয়েন্ট হচ্ছে— যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, সেটার জন্য শাস্তি পেতেই হবে। কোনো ছাড় হবে না। বিন্দুমাত্র ছাড় নাই। আমি আপনাদের পরিষ্কার করে দিচ্ছি। ইট ইজ অ্যা ডিসিপ্লিন ফোর্স।

 আজকের দেশের ক্রান্তিলগ্নে দেশের প্রতিটি বাহিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে খালি (শুধু) সেনাবাহিনী টিকে আছে; বিমানবাহিনী টিকে আছে; নৌবাহিনী টিকে আছে; কেন? বিকজ অব ডিসিপ্লিন!

আমি আমার অফিসারদের আদেশ দিয়েছি, যদি সামান্যতমও কারো বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকে, সেটা তাদের পেপারে যাবে। এটা আমার ঢালাওভাবে নির্দেশ।  আপনারা আমার কথায় হয়ত খুশি হবেন না। কিন্তু পরিষ্কার করে জেনে রাখুন, আমার অন্য কোনো আকাঙ্খা নাই। আমার একটাই আকাঙ্খা, দেশ ও জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে ছুটি কাটানো।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পেছনে কিছু কারণ আছে। প্রথম কারণ, আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত, এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। তারা জানে এ পরিস্থিতিতে অপরাধ করে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হবে। আমরা যদি সংঘবদ্ধ থাকি। তাহলে এ সমস্যা মোকাবেলা করা সহজ হবে।

পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনী অপরাধ যেমন করেছে তেমনি দেশের স্থিতিশীলতা টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু অপরাধ যারা করেছে, তাদের বিচার হবে। হতে হবেই। নাহলে সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। প্রত্যক দোষীকে বিচারের আওতায় আনতেই হবে। মনে রাখতে হবে এই অর্গানাইজেশনগুলোকে আন্ডারমাইন করে ‘আমরা শান্তিতে থাকব’ এ চিন্তা করলে, সেটা কখনো সম্ভব হবে না। দুই লক্ষ পুলিশ আছে, বিজিবি আছে, র‍্যাব আছে, আনসার আছে, আর আমার আছে মাত্র ৩০ হাজার সৈন্য, এই ৩০ হাজার সৈন্য দিয়ে আমি কিভাবে বিরাট খালি জায়গা পূরণ করব। প্রতিটি অর্গানাইজেশনকে ফাংশন করতে হবে।

ডক্টর ইউনূস যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন দেশটাকে ইউনাইটেড করে রাখতে। উনাকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে, উনি যেন সফল হতে পারেন। আমরা একসাথে ইনশাআল্লাহ কাজ করে যাবো।  আমরা নিজেদের মধ্যে কাটাকাটি, হানাহানি বাদ দিয়ে একসাথে ইউনাইটেড হয়ে কাজ করতে হবে। আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন সতর্ক করা হয়নি! আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ করতে না পারেন, কাটাকাটি, মারামারি করেন, তাহলে এ জাতি কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।  আমি লক্ষ করছি, সেনাবাহিনী বা আমার প্রতি কারো কারো বিদ্বেষ; কিন্তু তাদের বিদ্বেষ কী কারণে, তা আমি খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা আপনাদের জন্যই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদেরকে সাহায্য করেন, প্লিজ আক্রমণ করবেন না। আমাদের অনুপ্রাণিত করেন, যেকোনো কাজে উপদেশ দেন। আমরা অবশ্যই উপদেশ গ্রহণ করব। দেশ ও জাতিতে আমরা একসাথে সবাই মিলে এগিয়ে নিব। এটা আমার কমিটমেন্ট।

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo