ঢাকা, বাংলাদেশ ।     সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রেমের টানে পালিয়ে বিয়ে, প্রাণনাশের হুমকিতে আত্মগোপনে দম্পতি।

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মফিজুল ইসলামের মেয়ে মোছলেমা আক্তার মুন্নি প্রেমের সম্পর্কের জেরে রুহুল আমিনের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর তারা কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে এই বিয়ে মেনে না নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে মুন্নি ও তার স্বামী আত্মগোপনে রয়েছেন।

একটি অডিও কল রেকর্ডে শোনা যায়, মুন্নির ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত তাকে বাড়িতে ফেরার জন্য বললে, মুন্নি জানান—মামলা তুলে নেওয়া ও আপস-মীমাংসার শর্তেই তিনি ফিরবেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তাকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং তিনি স্বেচ্ছায় স্বামীর সঙ্গে গেছেন।

এদিকে, ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম, উপজেলার সরকারি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, ও এক সাংবাদিকসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ মামলা করেন। মুন্নি তার ভাইকে বারবার অনুরোধ করেন মামলাটি প্রত্যাহার করতে, যাতে তিনি নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন। মুন্নি ও রুহুল দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক ও কলেজ শিক্ষার্থী। প্রেমের টানে ২৪ অক্টোবর মুন্নি তার ভাবির সঙ্গে রংপুর যান এবং সেখান থেকে রুহুলের সঙ্গে নওগাঁতে গিয়ে বিয়ে করেন। ইসলামি শরিয়ত মেনে ১,০১,০০০ টাকা মোহরানা ধার্য করে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

পরবর্তীতে মেয়ের পরিবার আশ্বাস দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু নওগাঁয় গিয়ে মুন্নির বাবা রুহুলকে মারধর করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েকে আলাদা করে বাড়ি নিয়ে আসেন এবং আপসনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। এরপর ৭ ডিসেম্বর মুন্নির বাবা তাকে জোরপূর্বক অন্যত্র বিয়ের দিন ঠিক করেন। কিন্তু মুন্নি এতে রাজি না থাকায় ২৬ নভেম্বর রাত ১২টায় রুহুলের কাছে পালিয়ে যান।

বর্তমানে এই দম্পতি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo