ঢাকা, বাংলাদেশ ।     সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজ পহেলা বৈশাখ, সারাদেশে আনন্দ শোভাযাত্রায় বর্ষবরণ করল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আজ পহেলা বৈশাখে বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উৎযাপন করছে পুরো দেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে সকালে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ বের হয়েছে। ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ – প্রতিপাদ্য নিয়ে বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় শামিল হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ঢাবি চারুকলার সামনে থেকে আজ সকাল ৯টায় শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড়, টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হয়। এবারের বর্ষবরণ কেবল বাঙালির নয়, সর্বজনিন বর্ষবরণ উৎসব। শোভাযাত্রায় এবার মারমা, ম্রো, চাকমা, রাখাইন, মনিপুরী, খুমি ত্রিপুরা, পাঙখুয়া, খাসিয়া, চাক জনগোষ্ঠীসহ ২৮টি জাতিগোষ্ঠী অংশ নিয়েছে। এবার পহেলা বৈশাখের আবহ আগের চেয়ে একটু আলাদা।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এটাই প্রথম নববর্ষ উদযাপন। ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারমুক্ত নতুন চেতনায় বর্ষবরণের আয়োজন হয়েছে দেশজুড়ে। বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম আয়োজন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটি বদলে এবার নতুন নাম হয়েছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।

ঢাকায় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’র পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বসেছে মেলা। সারাদেশেই গ্রাম-শহরে বৈশাখী মেলা, নাগরদোলা, যাত্রাপালা, পুতুলনাচ ছাড়াও থাকবে ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা-ইলিশ। সেই সঙ্গে থাকবে হালখাতার ঐতিহ্য। ব্যবসায়ীরা পুরনো হিসাব বন্ধ করে লাল খাতা খুলে বসেছেন আজ, ক্রেতাকে খাওয়াচ্ছেন ফল-মিষ্টি।

ছায়ানটের অনুষ্ঠানে গাজায় নিহতদের স্মরণ:

রাজধানীর রমনা বটমূলে এরইমধ্যে শেষ হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ ১৪৩২ অনুষ্ঠান। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শেষের আগমুহূর্তে শিল্পী ও দর্শনার্থীরা ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে ছায়ানটের এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ হয়। নীরবতা পালনের আগে ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, ফিলিস্তিনের গাজায় ভয়াবহ গণহত্যা ও মানবতার বিপর্যয়ের বিশেষ করে শিশু হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি বলেন, ফিলিস্তিনবাসী নিজেদের ভূমি রক্ষায় যে সংগ্রাম করছেন, তার প্রতি সংহতি জানাই আমরা।

এর আগে সূর্যোদয়ের পর পরই শুরু হয় বর্ষবরণের ছায়ানটের অনুষ্ঠান। এবারের আয়োজনের মূলভাব ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’। ছায়ানটের এবারের ৫৮তম আয়োজন সাজানো হয় নতুন আলো, প্রকৃতি ও মানুষকে ভালোবাসার গান ও সুরবাণী দিয়ে।

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo