ঢাকা, বাংলাদেশ ।     সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা মানুষের প্রাণের দাবির প্রক্ষিতে বুড়িমারী এক্সপ্রেস-২ নামে আরো একটি নতুন ট্রেন।

৯ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সকাল থেকে লালমনিরহাট-বুড়িমারী রেলপথে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়েছে। বুড়িমারী রেলস্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন 'বুড়িমারী এক্সপ্রেস' সরাসরি ঢাকা-বুড়িমারী রুটে চালুর দাবিতে স্থানীয়রা গত ২১ এপ্রিল সোমবার থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধায় এই রেলপথ অবরোধ করে রেখেছিল পাটগ্রাম-হাতিবান্ধার মানুষ।

পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা মানুষের প্রাণের দাবি "বুড়িমারী এক্সপ্রেস" ট্রেনটি সরাসরি বুড়িমারী থেকে চলাচল করবে।পাটগ্রাম বাসীর দাবির প্রক্ষিতে যে দীর্ঘ্য দিনের আন্দোলনের সামাধানের সংকট তৈরি হয়েছিল।সেই সমস্য সামাধানে জন্য ঢাকা বসবাসরত "ঢাকাস্থ ছাত্র ও পেশাজীবী আহব্বানে" আন্তঃনগর ট্রেন "বুড়িমারী এক্সপ্রেস" সরাসরি বুড়িমারী থেকে চালুর দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়,এবং মানববন্ধন মাধ্যমে পাটগ্রাম-হাতিবান্ধার মানুষের প্রাণের দাবিটি তুলে ধরে আন্দোলনকারীরা। মানববন্ধনের মাধ্যমে রেল উপদেষ্টা সাথে সাক্ষাৎ এর একটা সুযোগ পায় আন্দোলনকারীরা। সেখানকার পুলিশ ও এসবির কর্তব্যরত সদস্যরা আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দলকে রেল ভবনে নিয়ে যায়। রেল উপদেষ্টার মহোদয় রেলপথ সচিব মোঃ ফহিমূল ইসলাম, পরিচালক (ডিজি) মোঃ আফজাল হোসেন ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( অপারেশন) কে নির্দেশ দেয় আন্দোলনকারীর প্রতিনিধি দলের সাথে বসে আন্দোলনের সামাধান করতে। এবং রেল সচিব, ডিজি ও অতিরিক্ত ডিজির সাথে আন্দোলনকারী প্রতিনিধির দীর্ঘসময় আলোচনার প্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পুনরায় উঠে আসে।

১ম প্রধান সমস্য - ১। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম রুটগুলোর একটি, যা প্রায় ২৮ঘণ্টার বেশি সময় প্রয়োজন হয়। যা একই দিনে কভার করা সম্ভব হয় না। এবং দীর্ঘ সময় ধরে একটি ট্রেন পরিচালনা করা রেল কর্তৃপক্ষের জন্য কষ্টসাধ্য একটি ইন্জিনের মেইনন্টেন্সও বিষয় থাকে।

২য় প্রধান সমস্য- ২। বর্তমানে একটি ইঞ্জিন দিয়ে এত লং দূরুত্ব রুট পরিচালনা সম্ভব নয়, এবং পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও রেক (বগি) সংকট রয়েছে, বর্তমানে আমাদেরদেশে কোন ওয়ার্কসব বা স্টকে ইঞ্জিন ও রেক (বগি) নাই।

সম্ভাব্য সমাধান: ১। বুড়িমারী এক্সপ্রেস স্পেশাল ট্রেন চালুর পরিকল্পনা,( বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট চলাচল করবে, শুধু মাত্র ঢাকার যাত্রীদের জন্য) ক) নতুন একটি ট্রেন, "বুড়িমারী এক্সপ্রেস-২", নামে চালুর বিষয়ে তার পদক্ষেপ নিবেন। খ) এই ট্রেন শুধুমাত্র উপজেলা পর্যায়ের নির্দিষ্ট স্টেশনগুলোতে থামবে, যাতে সময় কমে এবং যাত্রীরা উপকৃত হবে।

২। নতুন ইঞ্জিন ও রেক আমদানির পরিকল্পনা: ক);ট্রেন পরিচালনার জন্য নতুন ইঞ্জিন ও রেক বিদেশ থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খ) তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়নে একের অধিক বছর সময় লাগতে পারে।

৩। সিরাগন্জ- বগুড়া লাইন ক্লিয়ার হলে এক রেক দিয়েও চলতে পারে।

আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ রেলওয়ে সক্ষমতা বিবেচনা করে আপাতত সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়।পরিকল্পনা অনুযায়ী, আপাতত "বুড়িমারী এক্সপ্রেস-২" নামে একটি বিশেষ ডেডিকেটেড ট্রেন চালু করা হবে, যা বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত চলবে। এই ট্রেনটি শুধু আন্তঃনগর "বুড়িমারী এক্সপ্রেস" এর যাত্রীদের জন্য সংযুক্ত থাকবে এবং লালমনিরহাটে মূল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করবে।

ঢাকাস্থ ছাত্র ও পেশাজীবী আহব্বানে যে প্রতিনিধি দলটি উক্ত আলোচনা অংশগ্রহণ করেছে তাদের পরিচয়ঃ ১। মোঃ জয়নুল আবেদীন, নিউজ ইডিটর জনতার কলম ও ব্যাবসায়ি। বাড়ি- পাটগ্রাম উপজেলা। ২।মোঃ আনিসুর রহমান (কেন্দ্রীয় সদস্য, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন) বাড়ি-পাটগ্রাম উপজেলা। ৩।মমিনুর রহমান এডভোকেট, বাড়ি:পাটগ্রাম উপজেলা। ৪।মো:রবিউল রবিন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢাকা কলেজস্থ লালমনিরহাট জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ,ঢাকা কলেজ বাড়ি: হাতিবান্ধাউপজেলা। ৫।মোঃ আনিসুর রহমান সভাপতি লালমনিরহাট জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাড়ি :হাতীবান্ধা উপজেলা।

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo