ঢাকা, বাংলাদেশ ।     সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
যৌতুক এর মামালার জের ধরে শশুর বাড়িতে গিয়ে নিজ হাতে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা।

লালমনিরহাট, পাটগ্রাম উপজেলার হাফেজ হাসিবুল ইসলাম কর্তৃক নিজ স্ত্রী এ্যামিকে পেটে ছুরিকাঘাতে ও গলা কেটে হত্যা করে। ঘঠানাটি ঘঠে ঈদুল আজহা দিন, ৭ই জুন/২০২৫ ইং তারিখে ঈদের নামাজের মুহুর্তে সকল ৮ দিকে । ঘটনাটি পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দৈয়ারটারী এলাকায় ঘটেছে। হাফেজ হাসিবুল বাংলাদেশ জামায়েতি ইসলামি কুচলীবাড়ি ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি মোঃ আরেফুল ইসলাম আরিফ এর ভাতিজা ও মোফাজ্জরের ছেলে, এ্যামি একই ওয়ার্ডের একরামুলের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে হাসিবুল রংপুরের একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকতা করেন। সামাজিকভাবে তিন বছর আগে হাসিবুল ও এমির বিয়ে হয়। তাদের একটি ১১ মাসের কণ্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের প্রায় দুই বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যৌতুক নিয়ে মনোমালিন্য ও দ্বন্দ্ব হয়ে আসছে। এ্যামি একপর্যায়ে ছয় মাস আগে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। নিহতের বাবা জনায় আমার মেয়েকে নির্যাতন করে আমার কাছ থেকে একাধিক বার যৌতুক গ্রহন করে হাসিবুল ও তার বাবা। যৌতুক নিয়ে একাধিক বার গ্রাম্য শালিস হয়েছে, পরবর্তীতে আমি তাদের নামে একটা নারি নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করি থানায় এবং মামলা বিচারাধীন অবস্থায় আছে লালমনিরহাট কোটে।

নিহতের মা জানায় ঈদের দিন সকালে আমার মেয়ে ও মেয়ের বাচ্চাকে দেখতে আসে হাসিবুল। ঘরের ভেতরে তাদের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে এ্যামিকে পিঠে কোপ দেন এবং পরে গলায় ছুরি চালিয়ে জবাই করেন। এরপর দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।

নিহতের বাবা-মা জানান হাসিবুল পরিকল্পিতভাবে ঈদের দিন সকালে ফাঁকা বাড়িতে এসে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পাটগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, “ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের পরিবার অভিযোগ দায়ের করেছে এ্যমির স্বামী হাফেজ হাসিবুল ও শশুরের উপরে । অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের বাবা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।” নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারে কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে।

 

হাসিবুলের চাচা মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ, বাংলাদেশ জামায়েতি ইসলামী কুচলীবাড়ি ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি দাবি করে তিনি বলেন উক্ত ঘঠানাটি খুবই মর্মান্তিক উল্লেখ করেন। তিনি জানান হাফেজ হাসিবুল আমার ভাতিজা এবং মেয়ে এ্যামিলি আমার আত্তীয় হয়, হাসিবুলের পরিবার একাধিকবার যৌতুকের বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য বিচার ও সালিশ করেছি। তিনি জানান যৌতুক এবং বিগত মামলার ক্ষোভ নিয়ে হাসিবুল এ্যামিলি কে খুন করেছে বলে মনে করেন তিনি।

নিহতের পরিবার অভিযুক্ত হাফেজ হাসিবুল কে পুলিশ প্রশাসন যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখামুখি করেন এবং সঠিক বিচারের মাধ্যমে তার ফাঁসির দাবি তুলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাফেজ হাসিবুল সেনাবাহিনী র সহতায় ধরা পরেছে এবং হাসিবুল বাবা ও তার ভাইকে ঘঠনা স্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ।

ঘঠনার পর উত্তেজিত হয়ে নিহতের পরিবার অভিযুক্ত হাসিবুলের বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর করে বিভিন্ন সম্পত্তির ক্ষয় ক্ষতি করে বলে দাবি হাসিবুলের পরিবারের।

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo