ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়া গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি ইরান। বিপুল জনতা দেশটির রাজধানী তেহরানসহ বেশ কয়েকটি শহরের রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।
২০২২ সালে তেহরানে পুলিশ হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে হওয়া বিক্ষোভের পর চলমান আন্দোলনকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানে এবারের আন্দোলন শুরু হওয়ার পেছনে মূলত দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক মন্দাকেই দায়ী করা হচ্ছে। ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের ডাকা কর্মসূচি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়েছে ইরানজুড়ে।
জানা গেছে, দেশটির ৩১টি প্রদেশের ১০০টিরও বেশি শহরে অসংখ্য মানুষ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া হওয়া গেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে সংকটে পড়েছে ইরানের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোও।
একজন চিকিৎসক বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, রোগীদের ভিড় সামলাতে তাদের পর্যাপ্ত সার্জন নেই। সংকটে পড়েছে চক্ষু হাসপাতালও। যদিও দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বন্ধ থাকা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না থাকায় প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবিসি।