ঢাকা, বাংলাদেশ ।     রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চার মাস পর নোট অব ডিসেন্ট ছারাই জুলাই সনদে এনসিপির সাক্ষর।

জুলাই জাতীয় সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার চার মাস পর শর্তসাপেক্ষে তাতে সই করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এনসিপির পক্ষে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এই সনদে স্বাক্ষর করেন।

সনদ সইয়ের পর যমুনা থেকে বের হয়ে আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান অন্তর্বর্তী সরকারের আহ্বানে, শর্তসাপেক্ষে তাঁরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজকে অন্তর্বর্তী সরকারের আহ্বানে আমরা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে এসেছিলাম। সেই জুলাই জাতীয় সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি। আমরা শর্ত সাপেক্ষে সেখানে স্বাক্ষর করেছি।’

শর্তের বিষয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা বলেছি যে, নোট অব ডিসেন্ট ব্যতিরেকে গণভোটের গণরায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সাপেক্ষে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আমি আক্তার হোসেন এই জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করলাম।’ আখতার এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি তুলে ধরে বলেন, ‘আগামীকাল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আমরা এটা আশা করি এবং এনসিপির তরফ থেকে দাবি রাখছি যে আগামীকাল কোনো প্রকার ব্যত্যয় ব্যতিরেকে প্রথমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা শপথ গ্রহণ করবেন।

তারপরে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ তারা গ্রহণ করবেন।’ এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষদিন। আমরা সরকারের আহ্বানে, সরকারের আমন্ত্রণে যমুনাতে এসেছিলাম সংস্কারের ঐকমত্যের দলিল জুলাই জাতীয় সনদে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে স্বাক্ষর সম্পন্ন করার জন্য।’ গত বছরের ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই জাতীয় সনদে সই করেছিল। ওই সময় এনসিপি এই সনদে সই করেনি। কয়েকটি দাবি পূরণ না হওয়ায় দলের নেতারা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও যাননি। সেই প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ যেদিন স্বাক্ষরিত হয়েছিল এনসিপি সেদিন স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যায়নি এবং স্বাক্ষর করেনি।

কারণ আমরা তখন বলেছিলাম যে জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে তাতে সই করার কোনো মানে থাকবে না।’ নোট অব ডিসেন্টের (বিভিন্ন ধারায় বিভিন্ন দলের আপত্তি) বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সনদে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। আমরা মনে করি, নোট অব ডিসেন্ট কোনো সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারে না। ফলে নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য থাকা প্রয়োজন। সে প্রেক্ষিতে আমরা (সে সময়) সই করি নাই। পরবর্তীতে আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে জুলাই জাতীয় সনদ আদেশ দেওয়া হয়। যে আদেশের ভিত্তিতে এবারের ত্রয়োদশ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ নাহিদ জানান, যেহেতু গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে রায় এসেছে। সেহেতু নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই সনদ বাস্তবায়নের পথে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, ‘গণভোটে জনগণের রায় সংস্কারের পক্ষে এসেছে, ন্যায়ের পক্ষে এসেছে। এখন আমাদের আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে দায়িত্বটা হচ্ছে এই রায় অনুযায়ী, ন্যায় অনুযায়ী এই রায় বাস্তবায়ন করা। আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি এবং সংসদে যাচ্ছি এই জুলাই জাতীয় সনদ এবং সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করার জন্য। এটাই আমাদের ম্যান্ডেট। জনগণ আমাদের এই ম্যান্ডেট দিয়েছে। আমাদের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ সম্পূর্ণতা পেল।’ নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুইবার শপথ নেবেন জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

কিন্তু আমরা আইন উপদেষ্টা এবং সংসদ বিভাগের সচিবের সঙ্গে কথা বলে অনানুষ্ঠানিকভাবে জেনেছি যে আগামীকাল দুইটি শপথ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটাই হওয়ার কথা। কারণ এই গণভোটের আদেশে খুব সুস্পষ্টভাবেই লেখা আছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জাতীয় সংসদের সদস্য হবেন এবং সংস্কার পরিষদেরও সদস্য হবেন। ফলে একই সঙ্গে আগামীকাল দুইটা শপথ হবে। প্রথম শপথ সংসদ সদস্য হিসেবে নেবেন, যারা জিতে এসেছেন। সেই একই ব্যক্তিগণ সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। একই সঙ্গে পরপর দুইটি শপথ হবে। এরকমটাই আমরা জানি। গণভোটের আমাদের আদেশেও সেটাই লেখা আছে।’

সূত্র-জকের খবর

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo