ঢাকা, বাংলাদেশ ।     রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাদারীপুরে জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ "অ্যাডভোকেট ইলিয়াজ হাওলাদারের' বিরুদ্ধে!

থানায় অভিযোগ ও স্থানীয় সালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগ, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা।

মাদারীপুর সদর উপজেলার দূধখালী ইউনিয়নের মধ্য হাউসদী গ্রামে  জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুর আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইলিয়াজ হাওলাদার-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে বড় ভাই অলিউর রহমান (মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ডামুড্যা, শরিয়তপুর)-এর প্ররোচনায় এবং অ্যাডভোকেট ইলিয়াজ হাওলাদার-এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় অভিযুক্ত অপর পক্ষ ও তাদের সহযোগীরা অভিযোগকারীদের দাবি করা মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে গাছ কাটার কাজ শুরু করেন। এ সময় জমির মালিকপক্ষ বাধা দিলে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী  (আনোয়ার হেসেন মানিক হাওলাদার) পক্ষের অভিযোগ, অলিউর রহমানের কুপ্ররোচনায় অ্যাডভোকেট ইলিয়াজ হাওলাদার এসব বেআইনি কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া নিজেকে প্রভাবশালী আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি এলাকায় নিরীহ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, মাদারীপুর জেলা বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমান শাকিলের জুনিয়র পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তদন্তকালে এই প্রতিবেদক আরো জানতে জানা যায় যে এডভোকেট  ইলিয়াজ হাওলাদার পূর্বে দুধখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এর সহযোগী হয়ে বিভিন্ন বেআইনি কাজে জড়িত ছিলেন।


ঘটনার বিস্তারিতঃ গত   ১০ জুন মাদারীপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ নাইম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন। পুলিশি নির্দেশনার পর নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

পরবর্তীতে গত ১৩ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সংশ্লিষ্ট জমি নির্দিষ্টভাবে ভাগ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারী পক্ষে দাবি করেছেন। সে সময় উভয় পক্ষে সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে চলার অঙ্গীকারও করে বলে জানা যায়। উল্লেখ্য, ইলিয়াজের ভাই অলিউর রহমান স্থানীয় গণ্যমান্য সালিশগনের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। 

সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জনাব বিল্লাল খান, আয়ুব খান, অ্যাডভোকেট সরোজ, মিজান ফরাজি, গোলাম কিবরিয়া, সিরাজ খান, শাখাওয়াত খান,  সোহেল আকন, ফিরোজ হাওলাদার সহ এলাকার আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি।

অভিযোগকসরী জানান, গত ১৯ জুন সকাল  ৭ টার দিকে অ্যাডভোকেট ইলিয়াজ হাওলাদারের ভাই অলিউর রহমানের কুপরামর্শে  সালিশি রায় প্রত্যাখ্যান করে  বেআইনিভাবে ইলিয়াজ নিজে সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন, নিজের মামা আজাদ খান, তার ভাইয়ের শ্যালক রাসেল বেপারী,  ভাড়াটিয়া গুন্ডা মাস্তান ও  প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক ও রাজ মিস্ত্রি নিয়ে পুনরায় ওই জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করে। এ সময় তারা প্রকাশ্যে পূর্বের সালিশি সিদ্ধান্ত না মানার ঘোষণা দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, তারা বাধা দিতে গেলে পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। ২২/০৬/২৬ তারিখ মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  এর আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারয় মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে  পুলিশ ইনজাংশন জারি করে সকল কাজ স্থগিত করেন।  বর্তমানে অভিযোগকারী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিরাপত্তা চেয়ে মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে  ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৭, ১১৪, ১১৭(সি) ধারায় মামলা দায়ের করলে আদালত আসামীদের কে সমন দিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। 

  ভূক্তভোগী আনোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে জানান যে ইলিয়াজ হাওলাদর ও তার ভাইদেরকে ছোট থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। তিনি আরো জানান যে  ইলিয়াজ ssc তে ২ বার ফেল করে তৃতীয় বার ডি গ্রেডে পাস করে ; পরবর্তীতে আমি ঢাকায় এনে আমার বাসায় রেখে কলেজে ভর্তি করিয়ে দেই, থাকা খাওয়া লেখা পড়ার খরচ ও ভরম পোষন   সব দেই,  এইচ এস সি পাস করার পর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এল এল বি অনার্সে ভর্তি করিয়ে দেই এবং  ৩ বছর আমার বাসায় থাকে অনুরুপভাবে  ইলিয়াজের বর ভাই অলিউর রহমানক এইচ এস সি পরিক্ষায় ৪ বার ফেল করে উপায় না পেয়ে আমি শ্যামলি,  বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল টেকনোলজিতে ভর্তি করাই আমার ঢাকার বাসায় রেখে সকল ভরন পোষন দেই ও চাকুরীট জন্য ৩ লাখ টাকা দেই যাহা আজও পর্যন্ত ফেরত দেয়নি। ইলিয়াজের বোনকে সকল খরচ দিয়ে  বিয়ে দেই, আরেক ভাই পারভেজকে ইতালি নেই; কিন্তু এরা আমার সাথে এমন দুর্ব্যবহার করবে ; কথায় কথায় ইলিয়াজ গায়ে হাত তুলতে চাইবে, মারতে আসবে তাহা স্বপ্নেও ভাবিনি আমি দেশবাসী, প্রশাসন, ও আল্লাহর নিকট বিচার দিলাম।

 পরিবারটি  প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে জানিয়েছে, তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট ইলিয়াজ হাওলাদার-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিযোগটি তদন্তাধীন।

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo