ঢাকা, বাংলাদেশ ।     রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ধর্ষণ মামলায় শিক্ষার্থীকে ফাঁসানোর অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ধর্ষণ মামলায় এক শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। একইসঙ্গে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. তাছিন (২০) উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর আলমের ছেলে। তিনি স্থানীয় রামগতি রব্বানীয়া মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। মামলার বাদী রাশেদা আক্তার (২৩) একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং আমির হোসেনের স্ত্রী। শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে তাছিনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বয়ারচরের তেগাছিয়া বাজারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থীর বাবা নুর আলম এবং স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান মিজান, সালাহউদ্দিন ও কামাল উদ্দীন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮শে জুন রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তাছিন বাদীর বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার ২২ দিন পর, গত ২০শে জুলাই লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাছিনকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন রাশেদা আক্তার। আদালত মামলাটি রামগতি থানায় রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। তবে ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই দেয়া বাদীর আগের বক্তব্যের সঙ্গে আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীর পরিবার।

তাদের ভাষ্য, ঘটনার তিনদিন পর ১লা জুলাই রাশেদা আক্তার ও তার স্বামী আমির হোসেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং পুলিশের কাছে যে বক্তব্য দেন, সেখানে তারা দাবি করেনÑ ফেনীর দাগনভূঁইয়া উপজেলার জাহিদ (২৮) ও আরও পাঁচজন মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে। সে সময় দেয়া ভিডিও ও অডিও বক্তব্যেও একই ধরনের অভিযোগ ছিল বলে তারা দাবি করেন। এদিকে ২২ দিন পর আদালতে দায়ের করা মামলায় পূর্বে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে শুধু তাছিনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার বাদী ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান মিজান, সালাহউদ্দিন ও কামাল উদ্দীন বলেন, ঘটনার পর থেকে রাশেদা আক্তার বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। পরে আদালতে দায়ের করা মামলায় শুধু তাছিনকে আসামি করা হয়েছে। এসব কারণে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা জানান।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা নুর আলম বলেন, মামলায় উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে তার ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পূর্বের বিরোধের জেরে একটি প্রভাবশালী মহল তার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান। রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo