ঢাকা, বাংলাদেশ ।     রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভূমিকম্পের পর পানির সংকট, হাঁসফাঁস করছে জাপানিরা

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এবার ধ্বংসস্তূপের মাঝে তীব্র তাপদাহ ও খাবার পানির সংকট নতুন বিপর্যয় হয়ে দেখা দিয়েছে। কুমামোতো প্রদেশের ইয়াৎসুশিরো শহরে দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির অভাব। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে গ্রীষ্মের অসহনীয় তাপদাহ। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে অন্যান্য আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি এবং মৃত্যুর যোগসূত্র খতিয়ে দেখে এই সংখ্যা ৩০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

নিহতদের একটি বড় অংশ নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা এবং ইয়ন শপিং মলে ঘটে যাওয়া গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় চরম সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন। গত মঙ্গলবারের এই শক্তিশালী কম্পনে অসংখ্য ঘরবাড়ি ধসে পড়ার পাশাপাশি প্রধান সড়কগুলোতে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ইয়াৎসুশিরো শহরের প্রায় ৫৮ হাজার পরিবার বর্তমানে বিদ্যুৎ ও পানিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। শহরের স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় গ্রীষ্মের প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও চরম আর্দ্রতার মধ্যেই রাস্তার ম্যানহোলের ওপর অস্থায়ী শৌচাগার তৈরি করতে হয়েছে।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেমেছে জাপানের সামরিক বাহিনী বা 'সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স'। তারা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩০০টি এয়ার কন্ডিশনার স্থাপনের কাজ করছে এবং সামরিক ট্যাঙ্কার দিয়ে শহরের মোড়ে মোড়ে পানি বিতরণ করছে। তবে এই মুহূর্তে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ লিটার করে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে হিটস্ট্রোক সম্পর্কে সতর্ক করেছে। শহরের ক্ষতিগ্রস্ত পানি সরবরাহ লাইনগুলো পুরোপুরি সচল করতে ঠিক কতদিন বা কত মাস সময় লাগবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

আকস্মিক এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে জাপানের শিল্পখাতেও। দেশটির অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি ও অটোমোবাইল হাব হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে টয়োটা, হোন্ডা, নিসান এবং সোনির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারী বিশ্বের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি-ও সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করে কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। জাপানের ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তের মূল অগ্রাধিকার হচ্ছে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ-পানি ব্যবস্থা সচল করা।

সূত্র: বিবিসি

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo