লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বড় ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। একপক্ষের দাবি, ফিরোজ হোসেনকে (২০) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি অতিরিক্ত বিষপান করেছিলেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে সোমবার (৩ আগস্ট) এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
নিহত ফিরোজ হোসেন পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াপাড়া এলাকার মরহুম দিনার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধের একপর্যায়ে ফিরোজ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৩ আগস্ট) তার মৃত্যু হয়।
এদিকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ফিরোজ অতিরিক্ত বিষপান করেছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দুইবার হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান এবং পরে তাকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়।
তবে হাসপাতালের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, একজন ব্যক্তি যদি অতিরিক্ত বিষপান করে গুরুতর অসুস্থ থাকেন, তাহলে তিনি কীভাবে হাসপাতাল থেকে দুইবার পালিয়ে যেতে পারেন? এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
ফিরোজের মৃত্যুর প্রতিবাদে সোমবার পাটগ্রামের আন্তজেলা মোড় মহাসড়কে তার মরদেহ রেখে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ঘটনার পরও পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এবং মামলা গ্রহণে টালবাহানা করেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা ফিরোজের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পুলিশের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।