নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় আগাম জাতের ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, জ্বালানি তেল ও সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান উৎপাদনে খরচ বাড়লেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকারিভাবে এখনও ধানের দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে ধানের দাম বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলাজুড়ে ১৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ১৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। চাষকৃত ধানের মধ্যে ব্রি-ধান ৯০,ব্রি-৭৫,বিনা-১৭,স্বর্ণা-৫সহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।এর মধ্যে আগাম জাতের ব্রি-৯০ ধান ৯হাজার হেক্টর,ব্রি-৭৫ ধান প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এবং বিনা-১৭ ধান চাষ করা হয়েছে প্রায় ১১শ’ হেক্টর জমিতে। আগাম জাতের এসব ধান ইতিমধ্যে পেকে যাওয়ায় কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা।
কৃষকরা বলছেন, দেশে জালানি তেল, সার, কীটনাশকসহ কৃষি উৎপাদিত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ধান চাষে উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। এছাড়া সবগুলো নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকের মুজুরিও বেড়ে গেছে। এতে প্রতি বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বাড়লেও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে দাম বাড়িয়ে সরকার এখন পর্যন্ত ধানের দাম পুনর্নির্ধারণ করেনি। ফলে ধানের দাম বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, তিনি আড়াই বিঘা জমির ধান কেটেছেন। প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ১৯ মণ হারে ধানের ফলন হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় বাজারে ১১শ ৫০ টাকা প্রতিমণ ধান বিক্রি করেছেন।
উপজেলার চকাদিন গ্রামের কৃষক রিপোন বলেন, তিনি এবার পৌনে তিন বিঘা জমিতে ব্রি-৭৫ ও বিনা-১৭ জাতের ধান আবাদ করেছিলেন। ইতিমধ্যে তিনি ধান কেটেছেন এবং বাজারে ১১শ ৫০ টাকা দর বিক্রি করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে গড় প্রায় ১৮ মণ হারে ধানের ফলন হয়েছে। তিনি বলেন,জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছরের তুলনায় এবার ধান উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। নিজস্ব জমিতে ধান চাষ করে চলতি বাজার অনুযায়ী বিঘাপ্রতি দুই-আড়াই হাজার টাকা লাভ হয়েছে, কিন্তু বর্তমান দরে ধান বিক্রি করলে বর্গাচাষীদের অনেক লোকসান হবে। তাই কৃষকদের লোকসান থেকে বাঁচাতে ধানের দাম বাড়িয়ে সরকারিভাবে দর পূনর্নির্ধারণের দাবি করেন তিনি।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশকসহ বিভিন্ন দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার বিঘাপ্রতি প্রায় ১৮-২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের তেমন রোগবালাই হয়নি। ফলে ধানও ভালো হয়েছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ পুরোদমে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হবে।
রাণীনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) আমিনুল কবির বলেন, আগের বেঁধে দেওয়া ২৭ টাকা কেজি দর এখনও বহাল রয়েছে। সরকারিভাবে নতুন করে ধানের দর বাড়িয়ে এখনও মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আগামী নভেম্বর মাস নাগাদ সরকারিভাবে নতুন দর আসতে পারে।