মৌসুম শুরুর আগেই আলু তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। সেই আশায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কৃষকরা এখন আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত এক মাস ধরে আলু খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাটিলাল ২২ টাকা, পাটনাই ৩৫ টাকা, বিলাতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি এবারের দাম।
উঁচু-ডাঙা জমিগুলোতে ৫০ থেকে ৫৫ দিনে উত্তোলনযোগ্য বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের আগাম আলুর বীজ বপণ করছেন কৃষক। মাঠজুড়ে চলছে আলু বপণের উৎসব। মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন আলুর চাহিদা থাকে প্রচুর। দামও বেশ ভালো পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১ হাজার ৯৯৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতি বছর আগাম আলু চাষে প্রান্তিক-মাঝারি ও বর্গাচাষিরাও লাভবান হয়। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় স্বল্প মেয়াদি আগাম আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমি আলুর জন্য প্রস্তুত করতে হালচাষ পরিচর্যা, সার প্রয়োগ ও হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ ও বপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন সবাই।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের আমডুঙ্গি (আলুরডাঙ্গা) গ্রামের আলুচাষি শামিম হোসেন জানান, আলু লাগানোর এই প্রতিযোগিতা জানান দেয়, যার আলু যত আগে উঠবে সে কৃষক তত বেশি ভালো দামে বিক্রি করবেন। ভোক্তার কাছে আগাম আলু দিতে পারলে চড়া বাজার মূল্য পেয়ে দ্বিগুণ লাভবান হবেন এমন প্রত্যাশা কৃষকের।
সরেজমিন দেখা মেলে, মাঠের পর মাঠ আগাম আলু চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষক। যেন দম ফেলানোর ফুরসত নেই।
শিবনগর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ৮ বিঘা, বেলাল হোসেন ২ বিঘা, রাসেল ৩ বিঘা জমিতে আগাম আলু বপণ করেছেন। তারা জানান, আগাম আলু উত্তোলন করতে পারলে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বাজারে নতুন আলু বিক্রি করতে পারবেন। এতে তারা লাভবানহ বেন।
বেলাল হোসেন জানান, এই অঞ্চলের জমিগুলো উঁচু ও বালু মাটি মিশ্রিত। তবে শুষ্ক মাটিতে মাঝে মাঝে সেচ দিতে হয়। ভারি বৃষ্টিপাত হলেও তেমন কোনো ক্ষতির ভয় থাকে না। তাই আগেভাগে দ্বিগুণ লাভের আশায় আগাম আলু বপণ করছেন। তিনি আগাম জাতের রোজাডা আলুর বীজ বপণ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার জানান, চলতি বছর ১ হাজার ৯৯৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বছর শীতের শুরুতে বাজারে আগাম জাতের নতুন আলুর দাম বেশ ভালো থাকে। এতে কৃষক লাভবান হয়। তাই লাভের আশায় আগাম আমন ধান কেটে, সেই জমি প্রস্তুত করে আবারও সেই জমিতে আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উঁচু জমিতে আলু চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।