ঢাকা, বাংলাদেশ ।     সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহত্তর চলনবিলে শুটকি মাছ তৈরি করে ভাগ্য বদল হচ্ছে এই এলাকার মানুষের। দেশের বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে ওই সব এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। সেই সাথে জাতীয় আয়েও অবদান রাখছেন তারা। নাটোরের গুরুদাসপুরের বিলশা,সাবগাড়ী,পিপলা,খুবজীপুরে, সিংড়া কৃষষ্ণপুর, নুরপুর, বামিহাল, পাবনার চাটমোহর এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উজেলার মহিষলুটি মাছের আড়তে শুটকি মাছ শুকানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন  ওই সব এলাকার হাজারো নারী-পুরুষ।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে- চলনবিলাঞ্চলের পাঁচটি জেলার ১২টি উপজেলায় হাজারো শ্রমিক তাদের ব্যস্ত সময় পার করছেন। নারী-পুরুষের হাতের  তৈরি চলনবিলের শুঁটকি এখন দেশ ছেড়ে বিদেশেও যাচ্ছে। শুটকি তৈরিতে নারীদের অবদানের কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই শুটকি প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। তাই সময় থাকতে জরুরীভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার। উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর চলনবিল অঞ্চলের সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া ও রাজশাহী অঞ্চলে দেশীয় পদ্ধতিতে শুটকি তৈরি করা হচ্ছে। ভোরের আলো  শুরু হতে না হতেই শুরু হয় তাদের কর্মযজ্ঞ।

মাছে লবণ মাখানো, মাপজোখ করা, বহন করে মাচায় নেওয়া, বাছাই করা শুকানো আরও কত কাজ। আর এসব কাজের বেশীর ভাগই হয় নারীদের হাতে। মহাজন কেবল মাছ কিনেই দায়মুক্ত। চলনবিলের মিঠা পানির মাছের শুটকির জন্য বেশ সুনাম রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার পাশেই তৈরি হয় বিশাল এলাকাজুড়ে বসে শুটকি মাছ তৈরির কারখানা। চলনবিলের অধিকাংশ মাছ চলে আসে জেলা-উপজেলা সদরের আড়ত ও বাজারে। সেখান থেকে পাইকাররা শুটকির জন্য কিনে নিয়ে আসেন প্রচুর মাছ। তবে ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসেই মাছের বিশাল মৌসুম। ওই সময়ই বেশী চলে শুটকির মাছ সংগ্রহ। এসময় বর্ষার পানি শুকিয়ে যাওয়ায়  শুরু হয় এই কর্মজজ্ঞ। শুটকি মাছে ভাগ্য বদল!

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo