ঢাকা, বাংলাদেশ ।     সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর। তৈরি পোশাকশিল্প, ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও মুঠোফোনের ব্যবসায় আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। সেই ধারাবাহিকতায় নেমেছেন নতুন ব্যবসায়। দেশের তিনটি এলাকায় ইতিমধ্যে গড়ে তুলেছেন চারটি আধুনিক গরুর খামার। ঈদুল আজহায় প্রথমবারের মতো এসব খামারের গরু বিক্রি করেছেন। বিক্রিতে বেশ সন্তুষ্ট হয়ে আগামী বছরের কোরবানির ঈদে ভালো মানের গরু ওঠানোর প্রস্তুতি এখনই নিতে শুরু করেছেন।
বর্তমানে তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি। রপ্তানি ও বাণিজ্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৯ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) নির্বাচিত হয়ে আসছেন তিনি। তাঁর লাবিব গ্রুপের অধীনে এখন পোশাকশিল্প, ব্যাংকিং, আইটি, মোবাইল ফোন, পোলট্রি, কৃষি, মৎস্যসহ ২০টির মতো কোম্পানি রয়েছে। এতে সর্বশেষ সংযোজন হলো ‘আলমগীর র​্যাঞ্চ লিমিটেড’ নামের গরুর খামার।
সালাউদ্দিন আলমগীর জানান, করোনা মহামারির মধ্যেই আধুনিক গরুর খামার করা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন। সে অনুযায়ী রংপুরের পীরগঞ্জে ৮০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন গরুর খামার, যেটির কার্যক্রম শুরু হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। পাশাপাশি ময়মনসিংহের ভালুকায় ২০০ বিঘা ও টাঙ্গাইলের সখীপুরে (দুটি) ১৮০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন আরও তিনটি খামার। এসব খামারে এখন এক হাজারের মতো গরু রয়েছে। আলমগীর র​্যাঞ্চ দেশের চারটি এলাকায় নিজস্ব জমিতে গরুর খামার করতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এত দিন এসব জমি অনেকটা অব্যবহৃতই ছিল। সালাউদ্দিন আলমগীর বলেন, স্থানীয় লোকজনের কর্মসংস্থান এবং দেশে আমিষের ঘাটতি পূরণে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে অব্যবহৃত জমিতে খামার করা হয়েছে।
সালাউদ্দিন আলমগীর বলেন, ২০১৫ সালে ভারত থেকে যখন গরু আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, তখন পরবর্তী কোরবানির ঈদে কীভাবে গরুর চাহিদা মিটবে, তা নিয়ে দেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। হঠাৎ গরুর মাংসের দামও বেড়ে যায়। গরু ও গরুর মাংসের সংকট কাটাতে সারা দেশে ব্যক্তি উদ্যোগে খামার করা শুরু হয়। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ এখন গরু-ছাগল উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। ভারত থেকে না এলেও দেশে উৎপাদিত গরু-ছাগল দিয়েই এখন চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই গরুর খামার করতে আগ্রহী হচ্ছেন। একই চিন্তা থেকে আলমগীর র​্যাঞ্চেরও যাত্রা শুরু হয়।
দেশে গরুর ব্যবসাকে সুরক্ষা দিতে হিমায়িত মাংস আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার দাবি জানান আলমগীর র​্যাঞ্চের কর্ণধার। তিনি চান, দেশে ষাঁড় আমদানি নিষিদ্ধ হোক। তবে দেশে তরল দুধের চাহিদা মোটাতে গাভি আমদানির সুযোগ বহাল থাকতে পারে।

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo