ঢাকা, বাংলাদেশ ।     সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ই-কৃষিতে ফিরছে কৃষকের সুদিন

দেশের বিশালসংখ্যক মানুষ কৃষি খাতে জড়িত হওয়ার সুবাদে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে কৃষি খাতকে আধুনিককরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। দেশব্যাপী ই-কৃষির প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘কৃষি বাতায়ন’ ও ‘কৃষকবন্ধু ফোন’ সেবার উদ্বোধন করেন। ‘কৃষি বাতায়ন’ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষক সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারেন এবং ‘কৃষকবন্ধু ফোন’ সেবাটির মাধ্যমে কৃষক নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা পেতে পারেন। এজন্য একজন কৃষককে ৩৩৩১ নম্বরে কল করে নিজের সমস্যার কথা জানাতে হবে। সনাতন কৃষিসেবা থেকে ডিজিটাল কৃষিসেবায় রূপান্তরের ফলে এ দেশের কৃষি ও কৃষক উভয়ই আশার আলো দেখছে।
২০১৮ সাল থেকে দেশে চালু হওয়া ডিজিটাল কৃষিসেবার মাধ্যমে পালটে গেছে দেশের কৃষি খাতের চিত্র। কৃষি খাতে ব্যবহূত উল্লেখযোগ্য অ্যাপসগুলো হলো—কৃষকের জানালা, কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা, বালাইনাশক, কৃষি ডাক্তার, স্মার্ট কৃষি, কৃষিকথা, কৃষিসংবাদ, ফসলি, ছাদ কৃষি ইত্যাদি বাদেও আরো কিছু অ্যাপস প্রচলিত। এছাড়া রয়েছে পাট বিজ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ও স্যার বীজ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার।  
অ্যাপসগুলোর মাধ্যমে একজন কৃষক বিভিন্ন ধরনের সেবা নিয়ে থাকেন, যা কৃষিবিষয়ক সমস্যাগুলোর সমাধান দেয়। ডিজিটাল কৃষিসেবার এই অ্যাপসগুলো এখন সব কৃষকের হাতের মুঠোয়, যার দরুন কৃষক সহজেই জানতে পারেন কোন সময় কোন ফসলের উত্পাদন ভালো হবে। কত শতাংশ জমিতে কী পরিমাণ স্যার দিতে হবে। বীজ বপনের উপযুক্ত সময় কোনটা। কোন ফসলের জন্য কোন কীটনাশক বা বালাইনাশক উপযোগী ইত্যাদি।এই সেবাগুলোর পাশাপাশি দেশে চালু রয়েছে কৃষি কল সেন্টার নম্বর ১২২৬৩।  এই নম্বরে কল করে একজন কৃষক পেতে পারেন কৃষিবিষয়ক সব ধরনের সেবা। একইভাবে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচারিত হয় কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, যা স্বল্প শিক্ষিত কৃষকের জ্ঞানকে প্রসারিত করে।
অ্যাপসভিত্তিক এই সেবাগুলো উন্নয়ন ঘটিয়েছে কৃষকের অর্থিক অবস্থার। কয়েক বছর আগেও কৃষকের বাড়তি ফসল নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করত মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণি। পানির দামে মাঠ থেকে ফসল কিনে শহরের বাজারে তা বিক্রি করত কয়েক গুণ বেশি দামে। এতে উত্পাদনকারী কৃষক ও পণ্য ক্রয়কারী ক্রেতা উভয়েই প্রতারণার শিকার হতেন। কিন্তু সেই দিন পালটেছে। এখন মাঠ থেকে পণ্য বা শস্য ক্রয় করে সরকার। আধুনিক কৃষিসেবায় ব্যবহূত নম্বরগুলোতে যোগাযোগের মাধ্যমে নায্য দামে কৃষক ফসল বিক্রি করতে পারেন।
আধুনিক সময়ে অনেক শিক্ষিত তরুণ জড়িত হচ্ছেন কৃষি খাতে। নতুন নতুন উদ্ভাবনে সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের কৃষি খাত। ফলে দেশের কৃষি ও অর্থনীতি অচিরেই নতুন যুগে পদার্পণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবু একটা কিন্তু রয়ে যায়, দেশের সব জেলার প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ ই-কৃষির আওয়ায় এসেছে এই নিশ্চয়তা দেওয়া ভার। তাই মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় সব কৃষককে ই-কৃষির আওতায় আনতে হবে। তবেই দেশ জুড়ে প্রসারিত হবে আধুনিক কৃষিসেবা।

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo