বাংলাদেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ভাতের বিকল্প খাবার হিসেবে কম প্রচলিত বা অপ্রচলিত বিভিন্ন ফসল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির। বাংলাদেশে কম প্রচলিত ডাল জাতীয় একটি ফসল হলো অড়হর। ডাল ছাড়াও সবুজ সবজি হিসেবে অড়হর বীজ খাওয়া যায়। অড়হর গাছের বীজ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মুখরোচক ৭টি খাদ্য পণ্য উদ্ভাবনের দাবি করেছেন অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির।
উদ্ভাবিত পণ্যগুলো হলো শুকনো বীজের অড়হর-রুটি, অড়হর-পুরী, অড়হর-সিংগাড়াসহ সিদ্ধ কাঁচা বীজের পেষ্ট দিয়ে অড়হর-হালুয়া ও অড়হর-কাবাব, অড়হর বীজ ভাজা এবং কাঁচা বীজের সবজি। শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখরোচক পণ্যগুলো উদ্ভাবনের দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন এবং অধ্যাপক ড. মো. নেছার উদ্দীন।

প্রধান গবেষক ড. ছোলায়মান আলী ফকির জানান, অড়হর-রুটি ভাতের বিকল্প খাদ্য হিসেবে প্রধান খাদ্য চালের উপর চাপ কমাতে কার্যকর। অড়হর ডালের পেস্ট আটার সাথে মিশিয়ে অড়হর-রুটি তৈরী করা হয়েছে। ভাতের চেয়ে কার্বোহাইড্রেট অনেকাংশে কম থাকায় ওজন কমাতে কার্যকর অড়হর-রুটি। তিনি আরও জানান, খুব স্বল্প খরচেই ডালের চাহিদা পূরণে এ গাছ ভূমিকা রাখবে। অড়হর গাছটি খড়া সহনশীল ও পতিত জমিতে দ্রæত বর্ধনশীল হওয়ায় স্বল্প খরচে এবং স্বল্প পানি ব্যবহারে এটি বৃদ্ধি পায়। তরকারিতে মটরশুঁটির বিকল্প ডাল জাতীয় খাবার হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে।
পুষ্টি উপাদান ও ঔষধিগুণ সম্পর্কে গবেষক জানান, অন্যান্য ডালের মত অড়হর বীজে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ বিদ্যমান। কম চর্বি, বেশি আঁশ (ফাইবার) ও খনিজ পদার্থ বিদ্যমান থাকায় এ ডাল একটি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। উচ্চ মাত্রায় আঁশ থাকায় হজমে সাহায্য করে। খুবই কম কোলেষ্টেরল এবং উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম ও আঁশ বিদ্যমান থাকায় অড়হর বীজ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সবুজ পাতার রস জন্ডিস নিরাময়ে কার্যকর। অড়হর ডালে আয়রনের উপস্থিতির কারণে রক্তশুন্যতা উপশমে সাহায্য করে। পটাশিয়ামের উপস্থিতি রক্তচাপ প্রশমনে সাহায্য করে। এছাড়াও অড়হর ডালে ভিটামিন-বি, রিবোফ্লাভিন ও নিয়াসিনের উপস্থিতি দেহের শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে।
অড়হরের ফলন সম্পর্কে গবেষক জানান, অড়হরের জাত ভেদে গাছ প্রতি ২০০ থেকে ৫০০ গ্রাম শুকনো ডাল এবং ৫৫০ থেকে ৯০০ গ্রাম সবুজ সতেজ বীজ পাওয়া যায়। এছাড়াও জমিতে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ৪০০ থেকে ৮০০ কেজি ডালের ফলন হয়ে থাকে। অড়হর গাছ জ্বালানি ও ঘরের বেড়া হিসেবে, পাতা ও কচি ফল গো-খাদ্য হিসেবে, শেকড়ের রাইজোবিয়াম ব্যক্টেরিয়া মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। সব মিলিয়ে এই ডালের ফলন অন্যান্য ডালের চেয়ে লাভজনক বলে জানান তিনি।