ঢাকা, বাংলাদেশ ।     সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন,  ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভারতের মণিপুর রাজ্যে কোন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলো!

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং পদত্যাগ করার পর, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। অথচ রাজ্যটির কেন্দ্রেও বিজেপি সরকার থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাজ্য সরকার সংবিধান অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয়নি। গত ২০২৩ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘর্ষে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি), মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এন বীরেন সিং মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন।

এরপর থেকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে বিজেপির উত্তর-পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির সাংসদ সম্বিত পাত্র বিধায়কের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে কোনো সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই কারণে বৃহস্পতিবার মণিপুরে রাষ্ট্রপতি জারি করা হয়েছে। বিজেপি সরকার গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির সাংসদ সম্বিত পাত্রকে মণিপুরে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি একাধিকবার রাজ্যের বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করেন, তবে মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে কোনো সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

 

এই কারণে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মণিপুরে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে রাজ্যের সরকার সংবিধান অনুসারে কার্যক্রম চালাতে পারছে না, যা রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। মতের গড়মিল? জনজাতিদের দল এটিএলএফের নেতা গিনজা ভুয়ালজং বলেছেন, মেইতেই সম্প্রদায় থেকে কাউকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বাছা হলে তারা অস্বস্তি বোধ করতেন, মানতে পারতেন না। তিনি জানিয়েছেন, “কুকি-জো সম্প্রদায় আর মেইতেইদের বিশ্বাস করে না। এই অবস্থায় রাষ্ট্রপতি শাসন হয়ে ভালো হয়েছে। রাজনৈতিক সমাধানের একটা আশা থাকছে।” প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ''বিজেপি-র মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে প্রবল বিরোধ ছিল।

 

কুকি বিধায়করা মেইতেইদের থেকে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রবল বিরোধী ছিলেন। মেইতেইদের দাবি ছিল, তাদের মধ্যে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। তাছাড়া মেইতেই নেতারাও কোনো একটি নাম নিয়ে একমত হতে পারেননি।'' মণিপুরে বিধানসভার মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকলেও, বর্তমানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। বিজেপি সভাপতি এ সারদা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে সরকার গঠন হতে পারে। তিনি আরও বলেন, “মণিপুর গত দুই বছর ধরে সহিংসতায় জ্বলছে, অথচ কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে নিরব। দিল্লি বা মুম্বইয়ের ক্ষেত্রে কি এমনটা হতে দিতেন?” তিনি উল্লেখ করেন, উত্তর-পূর্বের বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগ নেই এবং তাই মণিপুরের পরিস্থিতি অবহেলিত রয়েছে। কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, “বিজেপি স্বীকার করে নিলো, মণিপুর শাসন করার ক্ষমতা তাদের নেই।

মণিপুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আর তার দায় এড়িয়ে যেতে পারবেন না।” কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, “গত দুই বছর ধরে কংগ্রেস রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়ে আসছিল। ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে এখন পর্যন্ত তিনশ'র বেশি মানুষ মারা গেছেন, এবং ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন।” তিনি আরও জানান, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে যে, মণিপুরে সাংবিধানিক ব্যবস্থার কাঠামো ভেঙে পড়েছে। রমেশের বক্তব্যের মাধ্যমে কংগ্রেস সরকার ও কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, এবং মণিপুরের অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

Copyright © janatarkolom.com All Right Reserved.


Developed By Monoputo